
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের সুযোগ নিয়ে ভারতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বিরোধীরা—এমন অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দাবি, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সারের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার গুজরাতের বনাসকাঁঠায় এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মোদী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব যেন ভারতের সাধারণ মানুষের ওপর না পড়ে, সে জন্য তাঁর সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে বিরোধীরা পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোদীর অভিযোগ, তাঁর সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিরোধীরা দেশের বাইরের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছে। জ্বালানি ও সারের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য কাজ করছেন। কিন্তু কিছু মানুষ দেশের কঠিন পরিস্থিতি দেখতে চান এবং দেশ বিপদে পড়লে আনন্দ পান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে যখন পুরো দেশ উদ্বিগ্ন, তখন বিরোধীরা সার ও গ্যাসের সংকট নিয়ে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এসব করা হচ্ছে শুধু তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ছোট করার জন্য।
জনসভায় কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন মোদী। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বেড়েছে। তবে সেই বাড়তি দামের চাপ ভারতের কৃষকদের ওপর পড়তে দেয়নি তাঁর সরকার।
মোদীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ১৬ লাখ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। কৃষক ও দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে।
মোদীর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের এই সংকটের প্রভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়তে না দিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিরোধীদের বিরুদ্ধে তাঁর তোলা ভুয়া তথ্য ছড়ানো ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগের বিষয়ে জনসভায় বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।